মালয়েশিয়ায় নিহত প্রবাসী নজরুলের মরদেহ পৌঁছাল কালীগঞ্জে, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
- পোষ্ট টাইম : 2026-05-07 18:56:24
- 14060 বার পঠিত
মালয়েশিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের মরদেহ অবশেষে নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। প্রায় ১৮ দিন পর প্রিয়জনের লাশ দেশে ফেরায় গোবরডাঙ্গা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শনিবার ভোরে নজরুল ইসলামের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে Hazrat Shahjalal International Airport-এ মালয়েশিয়া থেকে তার মরদেহবাহী ফ্লাইট অবতরণ করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় দাফন কার্যক্রমের সহায়তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে নিহতের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি একটি সমন্বিত খামার গড়ে তোলেন। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন প্রাণী পালন করে ধীরে ধীরে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল রাতে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নিহত হন।
নিহতের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও নজরুলকে ভয়ভীতি ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সব ব্যবসা গুছিয়ে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
নজরুল ইসলামের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মামা বলেছিলেন খুব দ্রুত দেশে ফিরবেন। কিন্তু তিনি ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। এটা মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।”
এদিকে, Bangladesh Police-এর কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনাটি বিদেশে সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয় থানার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তবে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
